হাসান মাহমুদ
ঢাকা | ৯ জুলাই ২০২৬
কবিতা কেবল শব্দের বিন্যাস নয়, মানুষের জীবন, মাটি ও সময়ের প্রতিচ্ছবি। সেই মাটির গন্ধমাখা কণ্ঠস্বরের কবি, মুক্তিযোদ্ধা ও সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদীকে স্মরণ করলেন দেশের কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে কবিতা বাংলাদেশ আয়োজিত স্মরণসভায় তাঁরা প্রয়াত কবির সাহিত্যকর্ম, ব্যক্তিত্ব ও বাংলা কবিতায় তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরকণ্ঠ সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খান। প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও গবেষক ড. মাহবুব হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি সোলায়মান আহসান, কবি হাসান আলীম, কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ, কবি শরীফ আবদুল গোফরান এবং কবি নাসির হেলাল।
কবিতা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক কবি ও গবেষক মাহফুজুর রহমান আখন্দ-এর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন, কবি হারুন ইবনে শাহাদাত, দেশীয় সংস্কৃতি সংসদের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা মানোয়ার, সাংস্কৃতিক সংগঠক আবেদুর রহমান, লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নতুন এক মাত্রা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ড. ফজলুল হক তুহিন এবং কবি হাসিনা মমতাজ।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তিশিল্পী মাহবুব মুকুল ও কবি আরিফ হোসেন সবুজ আল মুজাহিদীর কবিতা আবৃত্তি করেন। কবি শহীদ সিরাজী, কবি নাসরিন ইসলাম শেলীসহ অন্যরা তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন।
স্মৃতিচারণায় বক্তারা বলেন, আল মুজাহিদী ছিলেন মাটি, মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ এক কবি। তাঁর কবিতায় দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, যুদ্ধবিরোধী মানবিক দর্শন এবং বাংলার লোকজ জীবন এক অনন্য কাব্যভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। একজন সাহিত্য সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবে তিনি অসংখ্য নবীন লেখককে সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, কবি আল মুজাহিদীর সাহিত্যকর্ম শুধু একটি সময়ের দলিল নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের মানবিক ঐতিহ্যের এক মূল্যবান সম্পদ। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের কবি-সাহিত্যিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় উপস্থিত কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা নীরব শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সেই কবিকে, যিনি তাঁর কবিতায় বাংলার মাটি, মানুষের বেদনা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে একাকার করে তুলেছিলেন।