আমি ভেতরে ভেতরে কাঁপছি,
একটা ঘর যার দেয়াল নড়ে যাচ্ছে—
ভরসা ছিল, একটা পুরনো জামার মতো,
গায়ে লেগে ছিল বছরের পর বছর।
আজ দেখি সেলাই খুলে যাচ্ছে,
সুতো ঝুলছে হাতে।
কে বলেছিল সত্য টিকে থাকে?
আমি টিকে থাকতে দেখেছি মিথ্যাকে
মাইকের মতো জোরে,
আর সত্য পড়ে ছিল রাস্তায়,
জুতোর তলায় থেঁতলানো।
কেউ কথা বলেনি।
কেউ মুখ খোলেনি।
কেউ ঝুঁকি নেয়নি।
তাই আমি হাঁটছি এই শহরে,
বুকপকেটে একটা ভাঙা বিশ্বাস নিয়ে,
মানুষ আমার পাশ দিয়ে চলে যায়,
তাদের চোখে কোনো প্রশ্ন নেই,
আমার চোখে শুধু প্রশ্ন—
কোথায় গেল সেই হাত, যা হাত ধরেছিল?
এসবই একটা নীরব ছুরি,
পিঠে ঢোকে না, ঢোকে বিশ্বাসের ভেতরে,
রক্ত পড়ে না, শুধু ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যায়।
আমি নিঃস্বার্থ, রাতের ট্রেনের মতো,
থামি না,
কোথাও পৌঁছাই না,
শুধু ছুটি,
চাকার নিচে সময় পিষে যায়।
তবু আমি লিখি,
কারণ কাগজ কখনো আশা ভাঙে না,
কলম কখনো পিঠ ফেরায় না।
আর এই ভাঙা বিশ্বাসের ভেতর থেকেই
একটা নতুন সত্য জন্ম নেয়, রক্তাক্ত কিন্তু জীবন্ত।