একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান প্রযুক্তি দ্বারা বিবিধ জাগতিক উন্নয়ন হলেও মানুষের মনো জগতের কোন উন্নয়ন হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ বিশ্ব পরিস্থিতি বড়ো বিক্ষুদ্ধ, অস্থির ও ভয়াবহ। চারিদিকে শুধু অশান্তির আগুন। মারণাস্ত্রের ঝংকার, পারমাণবিক, রাসায়নিক যুদ্ধাস্ত্রের অহংকার, পাল্টাপাল্টি জবাব ও সাম্রাজ্যের অহংকার। পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলো মারণাস্ত্র মজুদ করছে, আর তা ব্যবহার করে একে অপরকে মুহূর্তের মধ্যে নগর সভ্যতা ও মানবসভ্যতা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে।
মানুষ হয়ে উঠছে হিংস্র, নিষ্ঠুর ও নির্দয়। মানুষ প্রতিনিয়ত পরশ্রীকাতরতায় আবিষ্ট, একে অন্যের স্নেহ, মায়ামমতা, সহানুভূতি সব ভুলে গিয়ে স্বার্থ আর লোভের পিছনে ছুটছে তো ছুটছে। মানুষের মনুষ্যত্ব বোধ লুপ্ত প্রায়, অর্ন্তজগতে মানবতার ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই মনে হচ্ছে। চর্তুরদিকে হিংস্রাত্মক আর পাশবিকতার ভয়ংকর এক মানব স্খলন চলছে। তাই আজ মানুষ আদর্শচ্যুত অনৈতিক কর্মকান্ডে আসক্ত হয়ে কম সময়ে অর্থ সম্পদ আহরণে অন্যায়, অত্যাচারী ও নরপিশাচ হয়ে উঠছে।
মানুষের আচরণে পশুত্বকে হার মানছে। লোভ লালসার কাছে কোন বয়সের নারী নিরাপদ নয়। বর্তমানে অবুঝ কন্যাশিশু, কিশোর, তরুণী, যুবতী, পৌঢ় ও বৃদ্ধা পর্যন্ত নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারীকে যথাযোগ্য শ্রদ্ধা, সম্মান তো দূরের ব্যাপার কন্যা শিশু থেকে বৃদ্ধা নারী অন্যায়, নিপীড়ন, পাশবিক যৌন ও শারীরিক নির্যাতনে নারীর ভবিষ্যতের আশা আকাঙ্খা, স্বপ্নপূরণ নিমেষেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। পরিবারের শান্তি সুখ অনিশ্চিত ও মানসিক কষ্টে সুন্দর ফুলের মতো পবিত্র জীবনগুলো মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। সমাজের কাছে কলংকিত, জীবনভর বহু অপবাদ নিয়ে পথ চলতে চলতে জীবনের কোন স্বাদ আহ্লাদ পূরণ তো দূরের কথা কলংকের বোঝা বইতে বইতে প্রকৃতির কাছে হার মানতে হয়।আহারে! নারী জীবন.......
পরিশেষে, নিজের ভিতরের চেতনাকে শুদ্ধ করতে হবে। পরিবার থেকে মানব আচরণ শৃঙ্খলিত ও আদর্শিক শিক্ষা শিশুকাল থেকে আরত্ব করতে হবে। তাহলে বর্তমান সভ্যতার নামে বর্বরতা, শিক্ষা সংস্কৃতির নামে মূর্খতা, মৈত্রী -অহিংসার নামে রক্তের বন্যা, শান্তির নামে বৈরীতা, বিজয়ের নামে কূট ষড়যন্ত্র, সত্যের নামে মিথ্যা প্রবঞ্চনা, ধর্মের নামে অধর্ম, মিত্রতার নামে বিশ্বাসঘাতকতা নিপাত যাবে। নিজের ভিতরে জগতকে শুদ্ধি করতে পারলে, নিজের ভিতর শান্তি স্থাপন হবে। শান্তি ঘরে বাইরে, দেশে বিদেশে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। শান্তি আছে নিজের একান্ত মনোমন্দিরে, আগে নিজের পরিচর্যা করে নিজেকে সঠিক ও সত্য পথে ধাবমান করার প্রচেষ্টায় অব্যাহত থাকি। একক জীবন শান্ত নিস্কলুষ করতে পারলে বাইরের জগৎ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে বাধ্য। তাই আসুন আগে নিজেকে পরিবর্তন করি, তারপর প্রতিবেশী, সমাজ সম্প্রদায় ও সর্বোপরি জাতিকে পরিবর্তন করতে সচেষ্ট হই। বিশ্বকবি রবী ঠাকুরের সৃষ্টিতে উচ্চারণ করি, অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে, নির্মল করো, উজ্জ্বল করো, সুন্দর কর হে।"। বিশ্ব মানবতার জয় হোক। জয় হোক সৃষ্টির সেরা মানবজীবনের।