কবিতা - মুক্তিযুদ্ধ- ১৯৭১/আমির হোসেন
আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি
দেখিনি বিপর্যস্ত সেই ভয়াল ১৯৭১,
শুধু শুনেছি বাবা চাচাদের মুখে
করুন যুদ্ধের সেই গল্প
জেনেছি চায়ের দোকানের
বিশেষ আলাপনে,
নৃশংস যুদ্ধ সে যে এক-
দাম্ভিকতার ক্ষমতার লড়াই।
প্রয়োজনে রাখবে না একটিও প্রান
দির্ঘ ৯ মাস আক্রোশ আর-
অতর্কিত আক্রমণে-
লাফিয়ে পড়েছে সাধারণ
বাঙ্গালিদের উপর,
যুদ্ধ চলেছে, শুধু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
নেই যে একটুও ছাড়!
নিয়েছে ৩০ লক্ষ তাজা প্রাণ
টেনে, হিঁচড়ে, ছিড়ে -
২ লক্ষ নাড়িদের সম্ভ্রম
ওরা করেছে নষ্ট।
চারিদিকে লাশের স্তুপ
মাঠে,ঘাটে,পথে, প্রান্তরে
বাতাসে লাশের গন্ধ,
ভেবেছিলো কণ্ঠ স্তব্ধ করে
নিশ্বেষ করে দিবে!
দুমড়ে, মুচড়ে, মেরে, শাসিয়ে -!
চিরতরে -
মাথা নত রাখবে বাঙ্গালির,
কিন্তু বাঙ্গালি তো সে রকম জাতি নয়
তারা চায় স্বাধীনতা
চায় বিজয়ের স্বপ্নগাঁথা,
তবে কেনো নিশ্চুপ!
তবে কেনো দেরি!
বাঙালি ঝাপিয়ে পড়ে -
ঐ নরপশু হানাদারদের উপর
নিষ্পাপ লাখো জিবনের বিনিময়ে
দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে পিছু হটে-
পাকিস্তানি রক্তচক্ষুধারী দোসররা,
বাঙালিরা বিজয়ী, উৎফুল্ল
মাতোয়ারা সারা বাংলাদেশ।
আজ মনে পড়ে ঐ সমস্ত
মর্মস্পর্শী -
সেই সব দিনের কথা,
৭-ই মার্চ,২১-শে মার্চ, ১৪-ই ডিসেম্বর-
১৬-ই ডিসেম্বর, আরো অনেক---!
সেই দিনগুলো যখন, সামনে আসে -
আমাদের,
স্মৃতির আঁচলে দাগ কাটে
ঐ বিভীষিকাময় পাতা
তবে সান্তনা এতটুকু পেয়েছি
দেশ পেয়েছে স্বাধীনতা,
সে যে এক রক্ত-সূর্য
স্বাধীনতার স্মারক।
আজ আমরা নতুন প্রজন্ম -
যুবক আছি যারা,
সামনে রয়েছে স্বাধীন দেশ
সাধারণ এ জাতি
গড়তে হবে সংগ্রামী দেশ
প্রতিযোগি এ সমাজ,
করতে হবে আর এক যুদ্ধ
আনতে হবে এক বিজয়
তবেই থাকবে ছিনিয়ে আনা
এক রক্ত-সূর্য স্বাধীনতার মান
বিজয়ের দাম।