
সরকারি সংগীত কলেজে ‘নৈরাজ্যের সিন্ডিকেট’: নিয়োগ জালিয়াতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বিদ্ধ অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা ও তাঁর শিক্ষক চক্র
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক(নীল সমুদ্র) | ঢাকা
দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও ঐতিহ্যবাহী সংগীত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সরকারি সংগীত কলেজ’ এখন চরম প্রশাসনিক অদক্ষতা, নিয়োগ জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর নাদিয়া সোমা সামাদের একতরফা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, অযোগ্য-অক্ষম শিক্ষকদের অনৈতিক সিন্ডিকেট রক্ষা এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে রহস্যজনক নীরবতা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করছে। ফলে এখানকার শিক্ষার মান প্রায়োগিক দক্ষতাহীন শুধু কাগুজে সার্টিফিকেটে এসে ঠেকেছে।
এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ফুঁসে উঠেছেন দেশের বরেণ্য সংগীতজ্ঞ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনীরা। অধ্যক্ষের বেআইনি কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জরুরি প্রতিকার চেয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এনএসআই, ডিজিএফআই এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ ও আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
১. যৌন হয়রানির লোমহর্ষক অভিযোগ ও অধ্যক্ষের রহস্যজনক নীরবতা
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসন এখন কাঠগড়ায়। কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক ইউনুসুর রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমান ও সদ্য প্রাক্তন নারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ‘পাস-ফেল’ এবং নম্বর কম-বেশির ভয় দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার মতো ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের কান্নায় ভেঙে পড়ার বিবরণ দিয়ে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী শেখ জসিম উদ্দীন কবির টেলিফোনে জানান,
”ইতিমধ্যেই কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আমার কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অশ্লীল ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আমি নিজ কানে শুনেছি এবং ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশটও সংরক্ষিত রয়েছে।”
একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কায় চলমান শিক্ষার্থীরা সরাসরি মুখ খুলতে ভয় পেলেও, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তারা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির ওপর উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও, এই স্পর্শকাতর ফৌজদারি অপরাধের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা সামাদ কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। উল্টো অভিযুক্তদের আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
২. নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ‘ভৌতিক জালিয়াতি’ ও স্বজনপ্রীতি
কলেজটি সরকারি হওয়ার পর থেকে আজ অবধি কোনো বিধিসম্মত অর্গানোগ্রাম, কাম্য যোগ্যতা এবং নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্যোগ নিলেও অধ্যক্ষ এবং তাঁর সিন্ডিকেট নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে এবং পকেট কমিটির মাধ্যমে পছন্দের অযোগ্যদের পুনর্বাসন করতে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একের পর এক বাধা সৃষ্টি করছেন। মাউশির মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো সাম্প্রতিক বেশ কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবে নজিরবিহীন দাপ্তরিক অসংগতি ধরা পড়েছে, যা নিয়ে খোদ মাউশির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
* মামলা ১ (সায়মা আহমেদ লিজা – প্রভাষক, তত্ত্বীয় সংগীত): সায়মা আহমেদ লিজাকে ‘সহকারী অধ্যাপক’ (Assistant Professor) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন অধ্যক্ষ। অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, সংগীত বিষয়ে তাঁর কোনো অনার্স ডিগ্রিই নেই! দীর্ঘ ১৩ বছর কর্মরত থাকলেও তিনি কোনো ব্যবহারিক (Practical) ক্লাস নেন না। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং কেবল লাইব্রেরির বইয়ের নাম উল্লেখ করেই ক্লাস পার করে দেন। সংগীতের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও আজ অবধি তাঁকে কোনো গান পরিবেশন করতে দেখা যায়নি।
* মামলা ২ (ছন্দা চক্রবর্তী – সহকারী অধ্যাপক, তত্ত্বীয় সংগীত): ছন্দা চক্রবর্তীর মূল উচ্চশিক্ষা ও ডিগ্রি হচ্ছে ‘প্রাণিবিজ্ঞান’ (Zoology) বিষয়ে। অথচ এবার তাঁকে সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূতভাবে ‘সহকারী অধ্যাপক (নজরুল সংগীত)’ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংগীতের মতো একটি বিশেষায়িত বিষয়ে প্রাণিবিজ্ঞানের ডিগ্রিধারী কীভাবে শিক্ষক হন—তা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
শূন্যপদের অস্তিত্ব ছাড়াই অগ্রিম জালিয়াতি
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পূর্বশর্ত হলো পদটি ‘শূন্য’ থাকতে হবে। ছন্দা চক্রবর্তীর বর্তমান পদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে সেপ্টেম্বর ২০blank৬-এ। অথচ অধ্যক্ষ এক অদ্ভুত দাপ্তরিক মারপ্যাঁচে পদ শূন্য হওয়ার আগেই, এপ্রিল ২০blank৬ থেকে সেই একই পদে সায়মা আহমেদ লিজাকে নিয়োগ দেওয়ার অগ্রিম প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ, এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত একই পদের বিপরীতে দুই শিক্ষকের অবাস্তব নাম সুপারিশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ সরকারি বিধিমালা পরিপন্থী।
এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা মোটা অঙ্কের সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করা সত্ত্বেও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বাইরে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
৩. সরকারি প্যাডের বেআইনি ব্যবহার ও আইনি নোটিশের চাতুরতা
কোনো বৈধ রেজুলেশন বা সাধারণ সভা (AGM) ছাড়াই অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা সামাদ নিজেকে কলেজের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘পদাধিকারবলে’ সভাপতি দাবি করেন। এরপর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের নৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থামিয়ে দিতে বেআইনিভাবে পূর্বের কমিটি ভেঙে দিয়ে নিজেই আহ্বায়ক হয়ে একটি পকেট কমিটি ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরকারি প্যাড এবং সরকারি নথি নম্বর ব্যবহার করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিমের বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর চিঠি ইস্যু করেন, যা সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এর জবাবে শেখ জসিম তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালে, অধ্যক্ষ তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে পরপর দুটি পরস্পরবিরোধী লিখিত জবাব পাঠান:
1. প্রথম জবাব (১৬ জুন, ২০২৬): এই জবাবে অধ্যক্ষের আইনজীবী স্বীকার করেন যে, তাঁর মক্কেল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সম্পর্কে যথাযথভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। চিঠিটি ইস্যু না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল উল্লেখ করে “আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ” করা হয় এবং বিষয়টিকে ‘যোগাযোগের ঘাটতি’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানানো হয়।
2. দ্বিতীয় জবাব: প্রথম জবাবের আইনি ভুল ঢাকতে পরবর্তীতে দ্বিতীয় আরেকটি জবাব পাঠানো হয়। সেখানে শেখ জসিম কর্তৃক পাঠানো একই নোটিশের ইমেইল, কুরিয়ার ও ডাকযোগের কপিকে সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে ‘পৃথক দুটি নোটিশ’ দাবি করে প্রথম জবাবের দুঃখ প্রকাশ ও সত্যতাকে অস্বীকার করার অপকৌশল চালানো হয়।
তড়িঘড়ি করে কমিটি ভাঙার নেপথ্য কারণ
অধ্যক্ষ ও তাঁর অনুসারী সিন্ডিকেট গত ১ জুন, ২০২৬ তারিখে (অ্যালামনাই কাজে সরকারি প্যাড ব্যবহার) একটি চিঠি ইস্যু করে শেখ জসিমের কাছে মাত্র ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চান। চতুরতার আশ্রয় নিয়ে চিঠির প্রাপ্তির সময় না লিখে প্রেরণের দিন থেকে সময় গণনা করা হয়, যার শেষ দিনটি ছিল চিঠি পৌঁছানোর দিন। ছুটির দিন বাদে একটি সরকারি কর্মদিবসের বেলা ৩টায় সভা ডাকার উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণ সম্পাদক যেন আইনি জবাব গুছিয়ে উপস্থিত হতে না পারেন। ওই দিনই সাধারণ প্রাক্তনীদের না জানিয়ে, তড়িঘড়ি করে নামসর্বস্ব পকেট মিটিং ডেকে বর্তমান কার্যকরী কমিটি ভেঙে দিয়ে বেআইনিভাবে অধ্যক্ষকে আহ্বায়ক করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়। শেখ জসিম সেখানে উপস্থিত হয়ে আইনসম্মত প্রতিবাদ করতে গেলে কতিপয় বহিরাগত ও অদক্ষ শিক্ষকের দ্বারা চরম অপদস্ত হন।
৪. মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তাধীন থাকা বিষয়ে বেআইনি ভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত ও আচরণ বিধি লঙ্ঘন:
শিক্ষা প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিষয় সরকারের উচ্চপর্যায়ে তদন্তাধীন থাকলে তার ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চলমান একটি তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই অধ্যক্ষ নিজেই একতরফাভাবে নিষ্পত্তিমূলক চিঠি জারি করেছেন পূর্বের দুজন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার চরম পরিপন্থী।
পাশাপাশি, মাউশির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি সভায় তৌহিদুনবী নামের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ‘নজরুল ইনস্টিটিউট’-এর একজন নিয়মিত সরকারি কর্মচারীকে (যিনি কলেজের কোনো শিক্ষক নন) উপস্থিত করেন। অধ্যক্ষের সিন্ডিকেটের পরিকল্পনায় তিনি উক্ত সরকারি দাপ্তরিক সভায় আইনগতভাবে উত্থাপিত বিষয়ের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়ে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী শেখ জসিমের বিরুদ্ধে টেবিল চাপড়িয়ে জঘন্যভাবে চরিত্রহননমূলক বক্তব্য রাখেন। একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অন্য সরকারি দপ্তরের সভায় গিয়ে এমন আচরণ সরকারি চাকরি বিধি (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী অমার্জনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও অধ্যক্ষের সিন্ডিকেট তাঁকে প্রশ্রয় দিয়েছে এবং পৈশাচিক উল্লাস প্রকাশ করেছে।
৫. বরেণ্য সংগীতজ্ঞদের ক্ষোভ ও ‘বিনা পারিশ্রমিকে’ ক্লাস নেওয়ার বিকল্প চ্যালেঞ্জ
মাউশিতে অনুষ্ঠিত উক্ত জরুরি ও শৃঙ্খলা সভায় বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দীন কবির তাঁর তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
”সংগীত একটি শতভাগ প্রায়োগিক (Practical) বিষয়। তত্ত্ব পড়ানোর সময়ও শিক্ষককে নিখুঁতভাবে গেয়ে বা বাজিয়ে তা দেখাতে হয়। কিন্তু এই কলেজে এমন শিক্ষকও আছেন যাঁর কণ্ঠে এত বছরে কোনো শিক্ষার্থী একটি সাধারণ গানও শোনেনি! ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভোলিউশনের (4iR) এই যুগে বিশ্ব সংগীতের বাজার যেখানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের, সেখানে কাম্য যোগ্যতাহীন শিক্ষকের কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটের ভেতর সীমাবদ্ধ থেকে বেকার হচ্ছে। এই লুটপাট ও অদক্ষতার সিন্ডিকেট দেশের স্বার্থে ভাঙতেই হবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরির সক্ষমতায় উন্নীত করতে আন্তর্জাতিক ভাবে দক্ষ জনবল তৈরীর মাধ্যমে দেশের জিডিপিতে অবদান রাখার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।”
তাঁর বক্তব্যের পর নাদিয়া সোমার বাহিনী কর্তৃক চরিত্রহনন ও টেবিল চাপড়ানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বরেণ্য সংগীতজ্ঞ শেখ সাদী খান ডিজি মহোদয়কে বলেন,
”এটা কি একটি সরকারি দপ্তরের সভা নাকি পল্টনের রাজনৈতিক সভা! আপনি যদি পারেন তবে এক বছরের জন্য কলেজের দায়িত্ব আমাদের দিয়ে দেখুন, আমরা কোনো বেতন নেব না। এক বছরের মধ্যে দেখিয়ে দেব আমরা কেমন মেধাবী প্রজন্ম তৈরি করতে পারি।”
সুস্থ ও দেশপ্রেমিক প্রাক্তনী এবং বিশিষ্টজনদের সুনির্দিষ্ট দাবি:
1. জাতীয় পর্যায়ে সার্চ কমিটি গঠন: সরাসরি মাউশির তত্ত্বাবধানে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগীতজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বিশেষজ্ঞ প্যানেল’-এর মাধ্যমে স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
2. বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষা সচল রাখার অঙ্গীকার: সার্চ কমিটি গঠনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যদি কলেজে শিক্ষকের শূন্যতা তৈরি হয়, তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি রুখতে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংগীতজ্ঞদের সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (বিনা পয়সায়) কলেজের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করেছে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীরা।
3. যৌন হয়রানির বিচার: মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অতি দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত পূর্বক ছাত্রীদের যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ কথা:
“নিজের জীবনের চেয়ে সম্মান কোটি গুণ মূল্যবান”—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রাক্তনীরা জানিয়েছেন, কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্য এবং নারী শিক্ষার্থীদের নৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে তাঁরা আমরণ অনশন, হাইকোর্টে রিট এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অনৈতিক সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করবেন। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংগীত কলেজটিকে বাঁচাতে এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বর্তমান সরকারের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ সঙ্গীতাঙ্গনের সর্বস্তরের দাবি।
