
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: ভয়াবহ বন্যা, অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড় ধসের আতঙ্কে যখন থমকে গেছে পুরো বান্দরবান, চারদিকে যখন শুধুই দুর্যোগের অন্ধকার—তখন এক অনন্য ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগ। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েও এবার টানা কয়েক দিন বিদ্যুৎহীন থাকার চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেলেন বান্দরবানবাসী। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করার নেপথ্য কাণ্ডারি হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান, নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে যেকোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বন্যা মানেই ছিল বান্দরবানবাসীর জন্য এক দীর্ঘ ও অন্ধকার অধ্যায়। দুর্যোগ এলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো দিনের পর দিন। কিন্তু এবার বান্দরবানবাসী দেখলো সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর চিত্র। বুক সমান পানি আর চারদিকের চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও সচল ছিল পুরো জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগের এই কঠিন দিনগুলোতে নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেনের নেতৃত্বে পুরো টিম ছিল মাঠপর্যায়ে দিন-রাত সক্রিয়। কখনো অবিরাম বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো রাত-বিরাতে কোমর সমান পানিতে নেমে লাইনের জটিল ত্রুটি মেরামত করেছেন তারা। একদিকে ছিল পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি, অন্যদিকে ছিল বৈদ্যুতিক লাইনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা। কিন্তু কোনো ঝুঁকিতেই পিছু হটেননি এই কর্মকর্তা ও তাঁর সাহসী দল। নিজের জীবনের পরোয়া না করে, সর্বোচ্চ সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন তারা।
বিপদসংকুল এই সময়ে অক্লান্ত পরিশ্রম ও দূরদর্শী পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রেখে লাখো মানুষের ভোগান্তি লাঘব করেছেন আমির হোসেন। দুর্যোগের রাতে ঘরে ঘরে আলো টিকিয়ে রেখে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা এখন পুরো জেলায় টক অব দ্য টাউন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়—সবখানেই এখন তাকে ও তাঁর পুরো টিমকে নিয়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার।
ঝুঁকি আর চ্যালেঞ্জ জয় করে বান্দরবানবাসীকে দুর্যোগের অন্ধকার থেকে মুক্ত রাখার জন্য প্রকৌশলী আমির হোসেন এবং বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের পুরো টিমকে ‘রৌদ্রদীপ্ত’-এর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও স্যালুট। প্রতিকূলতার বুকে আলো জ্বেলে রাখা আপনারাই দুর্যোগের সত্যিকারের নায়ক।