1. news@rodrodipto.online : rodrodipto online : rodrodipto online
  2. info@www.rodrodipto.online : রৌদ্রদীপ্ত :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

শিফু দিলদার হাসান দিলু এবং ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টার

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

শিফু দিলদার হাসান দিলু এবং ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টারবাংলাদেশে মার্শাল আর্টের ইতিহাস রচনা করতে গেলে যে কয়েকজন পথিকৃৎ ব্যক্তিত্বের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের অন্যতম গ্র্যান্ডমাস্টার শিফু ওস্তাদ দিলদার হাসান দিলু। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কেবল একজন প্রশিক্ষক হিসেবেই নয়, বরং সংগঠক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক, গবেষক এবং ক্রীড়া-উন্নয়নের অগ্রদূত হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের উশু ও কুংফু আন্দোলন একটি সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি লাভ করেছে।

 

শূন্য দশকের শুরুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে আলোচিত একটি নাম ছিল ক্ষুদে যোদ্ধা। শিফু ওস্তাদ দিলদার হাসান দিলুর পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও অ্যাকশন নির্দেশনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হয় শূন্য দশকের গোড়ার দিকে এবং ২০০৪ সালে এটি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস এবং চিত্রনায়িকা পপি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রবিন চৌধুরী, ইলিয়াস কোবরা এবং তুষার খান। চলচ্চিত্রটিতে শিফু দিলদার হাসান দিলু ‘রবিন’ চরিত্রে অভিনয় করেন। তাঁর বিপরীতে নবাগত মৌমি হাসান নায়িকার ভূমিকায় এবং তাঁর আরেক প্রিয় ছাত্র আনোয়ারও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল কিশোরদের জন্য নির্মিত বাস্তবধর্মী মার্শাল আর্ট কৌশল, যা সে সময়ের দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছিল।

মার্শাল আর্টে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা দেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আজকাল-এ আশ্চর্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের জন্য তিনি ‘আয়রণ ম্যান’ খেতাবে ভূষিত হন। অন্যদিকে, হানিফ সংকেত-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদি-তে তাঁর বিস্ময়কর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেওয়া হয় ‘ওয়ান্ডার ম্যান’ খেতাব। এই দুই পরিচয়ই পরবর্তীতে তাঁকে দেশব্যাপী বিশেষ জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

তাঁর দীর্ঘ সাধনার অন্যতম ফসল ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টার। ১৯৮০ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি আজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও সফল মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতীকচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত ইংরেজি ‘D’ অক্ষরটিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এটি একই সঙ্গে দিলদার এবং ডায়মন্ড নামের আদ্যক্ষরকে ধারণ করে। লোগোটির গঠনশৈলীতে মার্শাল আর্টের দুটি গতিশীল ভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায়, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়, শক্তি, শৃঙ্খলা এবং অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে উশুকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও শিফু দিলদার হাসান দিলুর অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৭ সালে তাঁর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে যে উশু সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনে রূপান্তরিত হয়। তিনি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এবং দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের উশু আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, প্রশিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। আন্তর্জাতিক উশু ও কুংফু কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ভোভিনাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ভোভিনাম ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ার্ল্ড ভোভিনাম ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সাভাতে অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান সাভাতে কনফেডারেশনের প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির প্রধান উশু প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর নেতৃত্বে এই বাহিনী দেশের অন্যতম শক্তিশালী উশু দলে পরিণত হয়েছে এবং বহু খেলোয়াড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি একজন লেখক ও গবেষক হিসেবেও পরিচিত। মার্শাল আর্টের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং ক্রীড়া কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি আত্মরক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা ও ইতিবাচক জীবনবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

দেশ-বিদেশে তাঁর কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ পর্যন্ত ৭৮২টিরও বেশি পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চীন সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ সম্মাননা, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ‘প্রেসিডেন্ট পদক’, ‘সেবা পদক’, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ‘বর্ষসেরা শিফু’ সম্মাননা, ‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কারসহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

হীরা যেমন দীর্ঘ সময়ের তাপ ও চাপ সহ্য করে মূল্যবান রত্নে পরিণত হয়, তেমনি শিফু দিলদার হাসান দিলুর শিক্ষার্থীরাও তাঁর প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কঠোর অনুশাসন, অধ্যবসায় এবং মানবিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী, সুশৃঙ্খল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে।

বাংলাদেশে মার্শাল আর্টের বিকাশ, উশুর প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিফু ওস্তাদ দিলদার হাসান দিলুর অবদান নিঃসন্দেহে অনন্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টার আগামী দিনেও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক যোদ্ধা তৈরির এই মহৎ যাত্রা অব্যাহত রাখবে, এমন প্রত্যাশাই সকলের।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত , আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট